ব্যাকএন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রিসিশন আর ডিটেইলের প্রতি আলাদা একটা টান তৈরি হয়েছে। সেখান থেকেই আসলে Custom Mechanical Keyboard এর দুনিয়ায় আমার হাতেখড়ি। নিজের পছন্দমতো সুইচ থেকে শুরু করে কিপ্যাডের নান্দনিকতা—সবকিছু নিজের মতো করে সাজিয়ে নেওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইনি। তবে শুরুটা যতটা সহজ ভেবেছিলাম, কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি এর পেছনে কতটা সময় আর ধৈর্য দিতে হয়।
কিবোর্ডের ফাউন্ডেশন
আমার প্রথম কাস্টম মেকানিক্যাল কিবোর্ড প্রজেক্টের জন্য বেস হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম Keychron Q3 বেয়ারবোন কিট। এর অ্যালুমিনিয়াম বডি বেশ প্রিমিয়াম একটা ফিল দেয় আর টেকসই হওয়ার ব্যাপারেও আমি নিশ্চিন্ত থাকতে চেয়েছিলাম। এই কিটটার মিনিমালিস্ট ডিজাইন আমাকে টেনেছিল, কারণ এটা আমার নিজের মতো করে সাজানোর জন্য একটা দারুণ ক্যানভাস হিসেবে কাজ করে।
সুইচ সিলেকশন
পার্সোনালাইজড কিবোর্ড বানানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল সুইচ বাছাই করা। অনেক রিসার্চ আর কাছের একটা শপে গিয়ে কয়েকটা অপশন নিজের হাতে ট্রাই করার পর শেষ পর্যন্ত Ajazz AS Yellow 101 Tactile switches সিলেক্ট করলাম। এই সুইচগুলো খুব বেশি শব্দ না করেই দারুণ ট্যাকটাইল ফিডব্যাক দেয়, যা আমার টাইপিং এক্সপেরিয়েন্সকে অনেক স্মুথ করে তুলেছে।
কিপ্যাড সিলেকশন
কিবোর্ড কিপ্যাড হিসেবে আমি Keychron Cherry Profile Double - Shot PBT Full Set Keycaps - Royal বেছে নিয়েছি। এর গাঢ় নীল আর সোনালি আভার কম্বিনেশনটা কিবোর্ডকে বেশ আভিজাত্য এনে দেয়। অবশ্য কিপ্যাডগুলো বসানোর সময় মনে হয়েছিল আরেকটু উজ্জ্বল কালার হলে হয়তো বেশি ভালো লাগত, কিন্তু পরে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি।
বাসায় কিবোর্ডটা দেখানোর পর আমার মেয়ের যে এপ্রুভাল পেয়েছি, সেটাই আসলে আমার কাছে বড় পাওয়া ছিল!
অ্যাসেম্বলি প্রসেস: যেখানে হোঁচট খেয়েছিলাম

নিজে কিবোর্ড বানানোর মজাটাই আলাদা, কারণ এতে কিবোর্ডের প্রতিটা পার্টের সাথে একটা কানেকশন তৈরি হয়। পুরো প্রসেসটা একই সাথে এক্সাইটিং আর একটু ভয়েরও ছিল।
১. ওয়ার্কস্পেস ঠিক করা: শুরুতেই সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছিলাম। ছোট ছোট পার্টগুলো যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য এটা খুব জরুরি।
২. কিবোর্ড মডিং: কিবোর্ডের সাউন্ড কোয়ালিটি বাড়ানোর জন্য কিছু মডিফিকেশন করেছি।
PE Foam: কিবোর্ডের ভেতরে PE ফোমের একটা লেয়ার দিয়েছি যাতে সেই আকাঙ্ক্ষিত "Thocky" সাউন্ড পাওয়া যায়।

Tempest Tape Mod: পিসিবি-র পেছনে দুই লেয়ার মাস্কিং টেপ লাগিয়েছি যাতে সাউন্ডটা আরও ক্লিয়ার হয়।

Force Break Mod: মেটাল-টু-মেটাল কন্টাক্ট কমানোর জন্য ইলেকট্রিক্যাল টেপ ব্যবহার করেছি।
স্ট্যাবিলাইজার ব্যালেন্সিং:
টাইপিংয়ের সময় স্পেসবার বা শিফট কি যাতে খটখট শব্দ না করে, সেজন্য স্ট্যাবিলাইজার লুব করা আর ব্যালেন্স করাটা ছিল বেশ পরিশ্রমের কাজ। একটু লুব্রিক্যান্ট এদিক সেদিক হলেই টাইপিং এক্সপেরিয়েন্স নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এটা করতে গিয়ে আমাকে বেশ কয়েকবার ট্রায়াল দিতে হয়েছে।
৩. সুইচ ইন্সটলেশন:
- মাঝপথে আসা ঝামেলা: সুইচ লাগানোর সময় আমি একটা বড় ভুল করে ফেলেছিলাম। বেশি মোটা PE ফোম ব্যবহার করার কারণে পিসিবি-র সাথে সুইচগুলো ঠিকমতো কানেক্ট হচ্ছিল না। কিছু কি কাজই করছিল না। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো সুইচগুলো নষ্ট, কিন্তু পরে বুঝলাম সমস্যাটা আমার দেওয়া ফোমে।
- সমাধান: মোটা ফোম সরিয়ে পাতলা একটা লেয়ার দেওয়ার পর সব সুইচ ঠিকঠাক কাজ শুরু করল। এই ছোট ভুলের কারণে আমার বাড়তি দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে।
- ইন্সটলেশন: ফ্যাক্টরি থেকে প্রি-লুব করা সুইচ হওয়ায় সরাসরি পিসিবি-তে বসিয়ে দিয়েছি। হট-সোয়াপেবল কিট হওয়ায় সোল্ডারিংয়ের ঝামেলা ছিল না।
৪. কিপ্যাড বসানো: সবশেষে কিপ্যাডগুলো বসানোর পর কিবোর্ডটা আসলে পূর্ণতা পেল। নিজের পছন্দের ডিজাইনটা যখন চোখের সামনে ফুটে উঠল, তখন সব কষ্ট সার্থক মনে হয়েছে।
ফার্মওয়্যার কাস্টমাইজেশন
Keychron Q3 তে QMK ওপেন-সোর্স ফার্মওয়্যার ব্যবহার করা যায়। আমি ভিম (Vim) ব্যবহার করার সময় যাতে সুবিধা হয়, সেজন্য ক্যাপস লক কি-কে এস্কেপ কি হিসেবে রি-অ্যাসাইন করেছি। এছাড়া আলাদা একটা নামপ্যাড লেয়ারও যোগ করেছি। কিবোর্ডের কোড ফর্ক করে এই চেঞ্জগুলো ইমপ্লিমেন্ট করেছি। আমার ফর্ক করা রিপোজিটরি এখানে পাবেন।
আমার মনে হয়, কাস্টম কিবোর্ড বানানো বেশ ব্যয়বহুল একটা শখ। অনেক সময় আর টাকা খরচ করার পরও দেখা যায় কোনো একটা কি ঠিকমতো কাজ করছে না, যা বেশ ফ্রাস্ট্রেটিং। তবে দিনশেষে নিজের হাতে বানানো কিবোর্ডে টাইপ করার প্রশান্তিটা অন্যরকম।
Custom Mechanical Keyboard নিয়ে এই পুরো জার্নিটা আমাকে পিসি হার্ডওয়্যারের সূক্ষ্ম কাজগুলো বুঝতে অনেক সাহায্য করেছে। আমার এই সেটআপে আরও কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন হয়তো ভবিষ্যতে করব, তবে আপাতত আমি এটা নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট।
কাস্টম মেকানিক্যাল কিবোর্ড (Custom Mechanical Keyboard) বানানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে এই ব্লগে জানুন সুইচ সিলেকশন, অ্যাসেম্বলি প্রসেস এবং মডিংয়ের খুঁটিনাটি।
